fbpx
FEATURED NON FICTION

চিন্তার এক অদ্ভুত শৈল্পিকতা

আজকে আমরা Rolf Dobelli এর লিখা The Art of Thinking Clearly নিয়ে আংশিক আলোচনা করবো।

IMAGE SOURCE : http://www.myfavouritelens.com

কখনো লক্ষ্য করেছেন কিছু মানুষ তাদের কর্মক্ষমতা বা সফলতার কৃতিত্ব নিতে রাজি কিন্তু ব্যর্থতার বেলায় তাদের মতামত ভিন্ন?

একটু অন্যভাবে বলা যাক,। ধরা যাক কিছু মানুষ বিদ্যালয়ের পরীক্ষাতে ভালো ফলাফল করেছে আবার কিছু মানুষ ব্যর্থ হয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তারা তাদের সফলতার কৃতিত্ব নিজেদেরকে দিতে চাইবে কিন্তু যারা ব্যর্থ হয়েছে তারা তাদের ব্যর্থতার দ্বায়-ভার নিতে চাইবে না। এর কারণ হচ্ছে, এক সমীক্ষাতে দেখা গেছে মানুষের অতি মাত্রায় আত্মবিশ্বাস বেশি থাকে প্রায় অনেক বিষয়ে। একটা মজার সমীক্ষা করা হয়েছিলো। ফ্রান্সে ৮৪ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করে তারা প্রেম ভালোবাসাতে পারদর্শী। কিন্তু দেখা গেছে কেবল মাত্র ৫০ শতাংশ পারদর্শী, বাকি ৫০ ব্যর্থ। এখান থেকে বুঝা যায় মানুষ ভুলবশত সফলতার কৃতিত্ব সব সময় নিলেও, ব্যর্থতার বেলায় তাদের সুর পালটায়।

খুবি সহজ ভাবে কেউ এই বিষয়টা সমাধান করতে চাইলে, তার উচিৎ হবে সৎ কোনো বন্ধুকে কফির জন্য দাওয়াত করে তার মতামত নেওয়া এবং জানা কোনদিকে ত্রুটি আছে এবং কোন দিকে শুধরানো উচিৎ।

একটা মজার বিষয় আলোচনা করা যাক। মানুষ চাইলে কোনো বিষয় নিয়ে কম ভবিষ্যৎ-বাণী এবং চাইলে কোনো কিছুর নিয়ন্ত্রণ কমাতে পারে। একটা উদাহরণ দিয়ে বলা যাক। কিছু মানুষকে একটি সমীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছিলো। সেই সমীক্ষাতে তাদেরকে বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজ সহ্য করতে হবে। এবং তাদের কে বলে দেওয়া হয়েছিলো যে সেখানে একটি লাল বাটন আছে এবং তারা চাইলে সেটি টিপে, আওয়াজ বন্ধ করতে পারবে। দেখা গেছে যেই মুহূর্তে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হলো আওয়াজ এর ব্যাপারে, সেই সময় তারা সহ্য ক্ষমতার বাহিরেও সহ্য করতে পারছিলো সেই আওয়াজ। কিন্তু আসল মজার বিষয় টা ছিলো ঐ লাল বাটন আসলে ‘Placebo Buttons” ছিলো যেটা কোন কাজই করতো না, সেটা আসলে তাদেরকে দেওয়া হয়েছিলো এই কারণে যাতে তারা মনে করে, পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে।

এই সূত্রে বলা যায়, মানুষের প্রায় প্রত্যেক জায়গাতে এমন “Placebo buttons” আছে যাতে করে মানুষ মনে করে প্রায় প্রত্যেক বিষয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে।

কখনো লক্ষ্য করেছেন, অনেক সময় কিছু মানুষ কিছু কথা বলে যেগুলো পরবর্তীতে সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয়? আসলে এটা Confirmation bias এর কারণে হয়ে থাকে। এটা আসলে কম বেশি সব মানুষের হয়ে থাকে। মানুষ আসলে এতটাই তার পূর্ব ধারণা বা চিন্তা-ভাবনার প্রতি মগ্ন থাকে যার কারণে নতুন কোনো তথ্য খুঁজতে গেলেও বা প্রকাশ করলেও মানুষ তার পূর্ব ধারনা অনুযায়ী সেই তথ্য নির্ধারণ করতে চায়। এই বিষয়টার কারণে হয় কি জানেন? মানুষ এই বিষয়টার কারণে অন্যান্য সম্ভাব্য কোনো কিছু বিবেচনা না করেই, তার পূর্ব বোধ বা ধারনা অনুযায়ী বারবার তথ্য উপস্থাপন করতে যায়। যার কারণে অন্যান্য ভালো সম্ভাব্য বিষয় গুলো ঢাকা পড়ে। কাজই কোনো মানুষ যদি এ জাতীয় ভ্রান্ত বিষয় এর শিকার হওন অবচেতন ভাবে, তার উচিৎ হবে অন্যান্য সম্ভাব্য বা নিরপেক্ষ ভাবে তথ্য এবং খবর যাচাই করা।

এবার এই বই এর একটি অদ্ভুত জটিল বিষয় নিয়ে কথা বলবো, যেটা স্বাভাবিক ভাবে প্রায় সময় ঘটে।

আপনি জানেন মানুষ কোনো বস্তু বা বিষয় এর মূল্য নির্ধারণ করে তার চাহিদা এবং পরিমাণ অনুযায়ী এবং সেটি মানুষীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য? একটু অন্যভাবে বলা যাক। ধরুন একজন মানুষ কিছু তার বন্ধু নিয়ে বাহির হলো কফি বা কোনো রেস্তরার উদ্দেশ্যে এ কারণে যে তারা কোনো নতুন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে। এবং তার চারপাশের সব বন্ধুই দেখতে সুন্দর এবং আকর্ষণীয়। কিন্তু দেখা গেলো সেই মানুষটা কারোর সঙ্গেই বন্ধুত্ব করা তো দূরের কথা, কারোর দৃষ্টিতে ঠিক মতন পড়লোই না। এর কারণ হচ্ছে তার আশেপাশে সব বন্ধুরা দেখতে সুন্দর এবং আকর্ষণীয়, যার কারণে তুলনামূলক ভাবে অন্যান্যদের দৃষ্টি তে সে পড়লো না। এ থেকে বলা যায় মানুষ আসলে অতটা ভালো না পরক্ষনে কারোর প্রতি ভালো সিদ্ধান্ত দিতে, বরং তুলনামূলক ভাবে তারা ভাবতে এবং সিদ্ধান্ত দিতে পছন্দ করে। আসলে বিষয়টা হচ্ছে এরকম যে দুটো বালতি তে পানি আছে। এবং একটি হচ্ছে কুসুম গরম পানি আরেকটি তে একদম ঠাণ্ডা পানি বরফ সহ। কেউ যখন আগেয় এক হাত ঠাণ্ডা বরফ সহ পানি তে রাখবে, এবং পরবর্তীতে তার দুই হাত গরম পানি তে ডুবাবে, সে লক্ষ্য করবে বিপরীত ভাবে, ঠাণ্ডা হাতে তাড়াতাড়ি গরম অনুভব হচ্ছে। ঠিক এরকম ভাবে একজন মানুষের পাশে আরও একজন যখন দাঁড়াবে এবং সে যদি আকর্ষণীয় হয়, দৃষ্টি তখন তার দিকেই থাকে। কাজই সেই সব মানুষের উচিৎ তুলনার চেয়ে নিরপেক্ষভাবে সব মানুষের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া।

এখান থেকে শিক্ষণীয় যে ,মানুষের অনুভূতি সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে, যেটা চিন্তার বাহিরে।

মানুষ মনে করে সে সব সময় সঠিক এবং মানুষ সব সময় কোনো বিষয় বা তথ্য চায় তার নিজের পূর্ব বোধ অনুযায়ী এবং মন মতন। মানুষ স্বল্প সংখ্যক বিষয় তে মনোযোগ দিতে পারে কিন্তু প্রায় সময় তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তের সময় দুর্বল সিদ্ধান্ত প্রদর্শন করে। এবং মানুষের সিদ্ধান্ত নির্ভর করে প্রায় সময় তার চারপাশের মানুষের ব্যবহার এবং তার আবেগ-দ্বারা।

এই বই এর মূল শিক্ষণীয় উপদেশ “সব সময় মানুষের তার নিজের প্রতি সৎ থাকা উচিৎ।”