fbpx
NON FICTION

প্রাচীন সময়ের মানুষ মনে করতো ভালোবাসা আত্মা এর সম্পর্ক, কিন্তু বিজ্ঞান অন্যভাবে চিন্তা করে।– ‘Why we love’ book by helen fisher

Image Source: themaneater.com

ভালোবাসার পিছনে কিছু অদ্ভুত মস্তিষ্কের কাজ

মানুষ যখন কাউকে ভালোবাসে, সাধারণ ভাবে ভালোবাসার মানুষটার সব কিছু ত্রুটিহীন ভাবা শুরু করে। অপূর্ণতাকে অধিকাংশ মানুষ আকর্ষণীয় মনে করে না, কিন্তু কারোর মাঝে যদি অপূর্ণতা থাকে অনেক সময় তার ভালোবাসার মানুষ সেটা কে আকর্ষণীয় ভাবে, কিন্তু কেন?

(মজার বিষয়, সংস্কৃতির কারণে একেক যায়গায় ভালোবাসার দৃষ্টি-ভঙ্গী একেক রকম। জাপানে কেউ তার ভালোবাসার মানুষের সম্পর্কে মন্তব্য করতে সময় চিন্তায় থাকে এই বিষয় যে তাকে নিয়ে বাজে কিছু বলে ফেলছে কিনা। অন্যদিকে ইউরোপ বা আমেরিকা তে ভিন্ন।)

আধুনিক বিজ্ঞান মনে করে এটা আমাদের মস্তিষ্কের রসায়ন এর কারুকাজ। বিজ্ঞানের মতে Dopamine, norepinephrine এবং Serotonin এসব খেলা খেলে। Dopamine এর কারণে মনোযোগ আকর্ষণ এসব ঘটে। বিজ্ঞান আরো মনে করে Dopamine এর কারণে এই ভালোবাসা নেশার মতন মনে হয়। বিজ্ঞান এটা কে Cocain নেওয়ার অনুভূতির সঙ্গে তুলনে করে। আর এই কারণে মানুষ যখন কাউকে ভালোবাসে তখন তাকে পাওয়ার ইচ্ছা জাগে বা তাকে নিয়ে মগ্ন থাকে।

অনেক সময় মানুষ লক্ষ্য করে যখন কারো প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি জাগে তখন তার হৃদপিণ্ড ছটফট করে অতিমাত্রায় বা তার মনে হয় একটা প্রজাপতি যকৃতির মাঝে উড়ে বেড়াচ্ছে। এটি মূলত Norepinephrine এর কারণে হয়ে থাকে। Norepinephrine এর কারণে অনেক সময় খারাপ অনুভূতি সৃষ্টি হয় যেমন ঘুম না হওয়া কিংবা খাওয়ার ইচ্ছা চলে যায়। Serotonin এখানে একটু অন্য রকম ভাবে কাজ করে। ভালোবাসার সময় এর মাত্রা খুবি কম থাকে। কেননা Dopamine আর Norepinephrine এর মাত্রা বেশি থাকে। Serotonin এর মাত্রা কম থাকার কারণে ভালোবাসার মানুষের প্রতি অস্থির অনুভব হওয়া শুরু করে। প্রায় সময় মানুষ স্বাচ্ছ্যন্দ অনুভব করে প্রিয় মানুষটার সঙ্গে থাকলে। তার কারণ মানুষ যখন তার প্রিয় এর সঙ্গে থাকে তখন Vasopressin এবং Oxytocin হরমোন শরীরে ঘনমাত্রায় বাড়তে থাকে।

(আরেকটা মজার বিষয়, আপনার একটা ফেইসবুক পেইজ এ লাইক, এমন কন্টেন্ট লিখার জন্য সাহায্য আর উৎসাহ দিতে পারে। ধন্যবাদ আপু/ভাইয়া 😁)

মানুষ অধিকাংশ সময় তাদের চেয়ে ভিন্ন কাউরোর প্রতি আকর্ষণ বোধ করে।

মানুষ যখন নুতুন এবং রহস্যময় কাউকে পায় তখন সেই মানুষের প্রতি তার আকর্ষণ এবং আকাঙ্খা বাড়তে শুরু করে। আগন্তক বা নুতুন কাউরোর প্রতি আকাঙ্খা বোধ করা মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে কোষে কোষে মিশানো। নুতুনত্ব মস্তিষ্কে ঘণ মাত্রায় Dopamine প্রকাশ করায়, যার কারনে এক আলাদা প্রেমের অনুভূতি জাগে সেই মানুষের প্রতি।

যখন প্রেমে বিচ্ছেদ ঘটে, তখন মস্তিষ্কে কি হয়?

প্রেমের বা ভালোবাসার সম্পর্কে বিচ্ছিন্ন ঘটলে মস্তিষ্কে Serotonin ভালোবাসা বা প্রেমে থাকা-কালীন যেরকম থাকে ওরকম ভাবে অবস্থান করে। কাউকে ভালবাসলে যেরকম একটা অস্থিরতা কাজ করতো serotonin কম মাত্রায় থাকার কারনে, ঠিক সেরকম অবস্থায় থাকে বিচ্ছেদের পর। বই এর মতে এই সময় অন্ততপক্ষে নিজেকে একদিন এর জন্য প্রিয়তমার সঙ্গে যোগাযোগ এর কথা মাথা থেকে ঝেরে ফেলে উচিৎ। বই এর লেখক আরও মনে করেন যে, নতুন অভিজ্ঞতার পিছনে ছুটলে, মানুষের নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা কমতে শুরু করে। কেউ যদি ব্যায়াম করা শুরু করে তাহলে সেটিও তাকে সাহায্য করতে পারে কেনোনা, এটি serotonin এর মাত্রা বাড়ায় যার কারণে অস্থিরতা কমে যায় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়া শুরু করে।